WORDS OF INSPIRATION

By Swami Vivekananda

Strength and fearlessness:

  • If you think yourselves weak, weak you will be ;if you think yourselves strong, strong you willbe.
  • Strength is life, weakness is death. Strength is felicity, life eternal, immortal, weakness is constant strain and misery: weakness is death.

Success:

  • Every successful man must have behind him somewhere tremendous integrity, tremendous sincerity, and that is the cause of his signal success of life.
  • Take courage and work on. Patience and steady work – this is the only way. Go on; remember – patience and purity and courage and steady work…so long as you are pure, and true to your principles, you will never fail.
  • No impatient one can ever succeed.

Words of inspiration:

  • Think not that you are poor; money is not power, but goodness, holiness.
  • Try to expand. Remember the only sign of life is motion and growth.
  • rise, awake and stop not till the desired end is reached. Be not afraid, for all great power, throughout the history of humanity, has been with the people. From out of their ranks have come all the greatest geniuses of the world.

(Compiled by Ria Karmakar from the booklet “Way to Success” published by

Sri Ramakrishna Ashrama, Rajkot)

আমার গ্রাম চানক

কল্যান দত্ত
ভূমিকাসরলতা, দৃঢ় সামাজিক বন্ধন এবং প্রকৃতির সাথে সংযোগ দ্বারা চিহ্নিত গ্রামীণ জীবন, যা শহরের দ্রুতগতির পরিবেশের সম্পূর্ণ বিপরীত, শহরগুলি আধুনিক সুযোগ–সুবিধা এবং কর্ম জীবনের সুযোগ প্রদান করলেও গ্রামগুলি প্রশান্তি, তাজা বাতাস এবং জীবনের ধীরগতির অনুভূতি প্রদান করে। গ্রামীণ জীবনের সবচেয়ে স্পষ্ট বৈশিষ্ঠ্যগুলির মধ্যে একটি হল – এর ঘনিষ্ঠ সম্প্রদায়। গ্রামের মানুষ প্রায়শই একে অপরকে ভালোভাবে চেনেন। প্রতিবেশিরা একে অপরকে সাহায্য করে, একসাথে উৎসব উদযাপন করে এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। গ্রামীণ জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল প্রকৃতির সাথে এর ঘনিষ্ঠ সংযোগ। চানক গ্রাম সাধারণত সবুজে ঘেরা, খোলা মাঠ এবং তাজা বাতাসে ঘেরা, যা শহুরে এলাকার দূষণ এবং শব্দ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ, বাতাসে দুলতে থাকা ফসলের দৃশ্য এবং জমির কাছাকাছি থাকার সুযোগ – এই সবই চানক গ্রামের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ। চানক হল একটি ঐতিহ্যবাহি গ্রাম, যেটি পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের একটি অংশ। চানক হল সেই স্থান যেখানে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আমার জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে এই গ্রামেই। আমি আমার গ্রামের কাছে কাসেমনগর এন এ জে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবন শেষ করে গুসকারা মহাবিদ্যা্লয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছি। লেখা ও নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ ছিল বলে আমি গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে একটি কোর্সে যোগদান করি।

আমি খুব কম বয়সয়েই আঁকা আর হাতের কাজ শিখেছিলাম। গ্রামে সুযোগ সুবিধা ও আয়ের পরিমাণ কম থাকার কারণে আমি পরবর্তীকালে আঁকাকেই নিজের জীবিকা হিসাবে বেছে নিয়েছিলাম। শুরুতে দুই জন বাচ্চাকে নিয়ে আঁকার ক্লাস শুরু করলেও পরবর্তীকালে আমার ১৫ জন ছাত্র হয়েছিল। এই জীবিকাই আমাকে সব থেকে বড়ো সুযোগ দিয়েছিলেন তরুন দাস মহাশয় ও তাঁর এন জি ও বেদান্ত এডুকেশন এন্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তিনি আমাকে ২৫ জন গরীব আদিবাসী বাচ্চাদের আঁকা শেখানোর সুযোগ করে দেন। সেখানে উপস্থিত সমস্ত বাচ্চারা খুব  উৎসাহের  সাথে  আঁকা শিখত, এবং তাদেরকে আঁকা শেখাতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।

গ্রামে জন্ম হওয়ার কারণে আমি কৃষিকাজের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। কৃষি কেবল একটি শিক্ষা নয়, এটি মানব জীবনের ভিত্তি, সভ্যাতার মেরুদণ্ড হয়ে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের জীবিকা, অর্থনৈতিক স্থিতিশিলতা এবং কর্মসংস্থান প্রদান করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। আমি কৃষিকাজ ভালোবাসি কারণ, এটি একটি নিরন্তর প্রচেষ্টা যা আমাদের প্রকৃতি, আমাদের ঐতিহ্য এবং আমাদের সম্প্রদায়ের সাথে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে। একজন কৃষক হিসাবে মাঠে কাজ করা আমার কাছে সবসময় আনন্দের কারণ, এর মাধ্যমে আমি আমার পরিবারকে সাহায্য করতে পারি। স্বামী বিবেকানন্দ-এর গ্রামীণ উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে খুব আনুপ্রানিত করে। তিনি শিক্ষা, স্বনির্ভরতা এবং সেবার মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের প্রকৃত অগ্রগতির জন্য গ্রাম এবং জনসাধারণের ক্ষমতায়নের প্রয়োজন। স্বামী বিবেকানন্দ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা পৌঁছানোর গুরুত্ব- এর উপর জোর দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে তাদের অধিকার বোঝা এবং শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং তাদের সম্প্রদায়ের উন্নয়নে অবদান রাখতে সাহায্য করবে। স্বামীজি বলতেন- “যদি গ্রামগুলি সর্বক্ষেত্রে সমৃদ্ধ না হয় ,তাহলে শহরাঞ্চলে কোনও উন্নয়নের প্রচেষ্টাই জীবনের ওপর টেকসই প্রভাব ফেলবে না”।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের অগ্রগতির জন্য গ্রামীণ উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন।তিনি সবসময় স্বনির্ভরতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতি জোর দিতেন। তিনি গ্রামীণ ভারতের জনগণকে তাদের নিজস্ব চাহিদা পূরণের ক্ষমতায়ন এবং আত্মসম্মান ও স্বনির্ভরতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে পুনরুজীব্বিত ও পুনর্গঠনে বিশ্বাস করতেন। তিনি গ্রামগুলির নিজস্ব চাহিদা পূরণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং গ্রামীণ জনগনের মধ্যে আন্তসম্মানের বোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রামীণ পুনর্গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং বৌদ্ধিক দিকগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রামীণ জীবনের সমগ্র কাঠামোকে পূর্ণজীব্বিত করার লক্ষ্য রেখেছিলেন। তিনি বহিরাগত শক্তির উপর নির্ভর না করে গ্রামগুলিকে স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং তাদের নিজস্ব চাহিদা পূরণে সক্ষম হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীনিকেতনকে গ্রামীণ পুনর্গঠনের কেন্দ্র হিসাবে তৈরি করেছিলেন, যাতে তিনি তাঁর ধারনাগুলিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তমর্যাদাশীল গ্রাম তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে গ্রামীণ সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ভারত প্রকৃত অগ্রগতি এবং উন্নয়ন অর্জন করতে পারবে।

গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতার ছাত্র হিসাবে আমার মনে হয়েছিল যে আমি আমার গ্রাম চানক এবং তার বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি ছোট বই লেখার সূচনা করতে পারি। গ্রামীণ ছেলেরাও তাদের উন্নতির কথা লিখতে পারে, এই ধারনাটি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য, আমাকে কলকাতার একটি এনজিও, বেদান্ত এডুকেশন এন্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সাহায্য করেছে।

চানক গ্রামের ভৌগলিক অবস্থানচানক গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার, মঙ্গলকোট ব্লকের,চানক গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি অংশ, যেটি কাটোয়া মহকুমার অন্তর্গত। যার নিকটবর্তী পৌরসভা হল গুসকরা (৯.১ কিলোমিটার)। এই গ্রামের সদর শহর হল বর্ধমান (৪০.৬ কিলোমিটার) এবং প্রধান শহর কলকাতা (১৪৪ কিলোমিটার)। এই গ্রামের উত্তরে অজয় নদ এবং দক্ষিণে কুনুর নদী প্রবাহিত হয়েছে। চানক গ্রামের উত্তর, দক্ষিন, পূর্ব ও পশ্চিমে যথাক্রমে কৃষ্ণপুর, বারুইপারা, গোপালবেড়া ও সালন্দা গ্রাম অবস্থিত। এই গ্রামের পূর্ব দিকে অবস্থিত আর একটি উল্লেখযোগ্য গ্রাম হল নতুনহাট (১২.৬ কিলোমিটার)। চানক গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেতর মোট ২২টি গ্রাম আছে,সেগুলি হল রামনগর, মল্লিকপুর, সারঙ্গপুর, সুরুলিয়া, চক পরাগ, উজিরপুর, বালিডাঙ্গা, জালপারা, গনপুর, পালপারা, ইরসন্দা, জয়পুর, বাজে জয়পুর, রসুনিয়া, সালন্দা, চানক, কৃষ্ণপুর,  মাঠগোবিন্দপুর, বারুইপারা, মহিষগরিয়া, গোপালবেড়া ও হেদোডাঙ্গা।

গ্রামের বিবরনমঙ্গলকোট ব্লকে ১ টি পঞ্চায়েত সমিতি,১৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েত,১৯৮ টি গ্রাম সংসদ (গ্রাম পরিষদ),১৩২ টি মৌজা এবং ১৩০ টি গ্রাম আছে যাদের মধ্যে চানক অন্যতম।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, পূর্ব বর্ধমান জেলার চানক সহ মঙ্গলকোট ব্লকের মোট জনসংখ্যা ২,৬৩,২৪০ জন। ২০১১ সালে,বিশেষ করে ব্লকের মধ্যে চানক গ্রামের জনসংখ্যা ছিল ১,৯৫৩ জন। যার মধ্যে ৯৯০ জন পুরুষ এবং ৯৬৩ জন মহিলা। এই গ্রামে ০-৬ বছরের শিশুর সংখ্যা ২২২ জন যেটি, গোটা গ্রামের সমস্ত জনসংখ্যার ১১.৩৭%। চানক গ্রামের গড় লিঙ্গানুপাত ৯৭৩, যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গড় লিঙ্গানুপাত ৯৫০-এর চেয়ে বেশি। ২০১১ সালের আদমশুমারি আনুসারে এই গ্রামের শিশুর লিঙ্গানুপাত ১০০০, যা পশ্চিমবঙ্গের গড় লিঙ্গানুপাত ৯৫৬-এর চেয়ে বেশি। অনান্য গ্রামের চেয়ে চানক গ্রামের সাক্ষরতার হার কম। ২০১১ সালে চানক গ্রামে সাক্ষরতার হার ছিল ৬৮.৪০% যার মধ্যে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৪.৮৬% ও মহিলা সাক্ষরতার হার ৬১.৭৪%। এই গ্রামে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির পরিবারের সংখ্যা বেশি বলে,এই গ্রাম অন্যান্য গ্রাম থেকে উন্নয়নে অনেক পেছিয়ে।
চানক গ্রাম এবং তার সংলগ্ন স্থানের ইতিহাসপশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলায় মঙ্গলকোট ব্লকে অবস্থিত চানক গ্রামের কোন সমৃদ্ধ ইতিহাস সেইরকমভাবে পাওয়া যায় না। তবে, চানক গ্রাম সহ তার সংলগ্ন স্থান গুলি সব আনুমানিক ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাদ্ব থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বসতি স্থাপনের ইঙ্গিত দেয়। এই গ্রামের কোন প্রত্যক্ষ ইতিহাস না পাওয়া গেলেও, গ্রাম থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মঙ্গলকোট গ্রামের বহু প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। চানক গ্রাম যেহেতু মঙ্গলকোট ব্লকের অংশ তাই বলা যেতেই পারে যে, মঙ্গলকোটের ইতিহাস এই গ্রামের সাথেও জড়িত।

মঙ্গলকোটের ইতিহাস বিভিন্ন রাজ্যর উত্থান–পতনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এটি রাঢ় অঞ্চলের অংশ ছিল, যা ধারাবাহিক ভাবে মগধ, মৌর্য, কুষাণ এবং গুপ্তদের দ্বারা শাসিত হয়েছিল। পরে, এটি গৌড় রাজ্যের অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তারপর পাল ও সেন রাজাদের অধীনে আসে। ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খিলজির বিজয়ের পর এই অঞ্চলটি মুসলিম শাসনের অধীনে চলে যায়।

কুষাণ যুগ (১ম থেকে ৩য় শতাব্দী) সহ বিভিন্ন সময়কালের বিভিন্ন নিদর্শন এবং কাঠামো আবিষ্কারের মাধ্যমে এই স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলকোট গ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। অজয় নদের সঙ্গে কুনুর নদীর মিলনস্থল পর্যন্ত এর ধ্বংসাবশেষ বিস্তৃত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৬-৯০ সালের মধ্যে এই প্রত্নস্থলটিতে উৎখনন কার্য পরিচালনা করে।

মঙ্গলকোটে ছয়টি প্রধান সাংস্কৃতিক স্তর বা পর্বের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলি হল –

প্রথম স্তর, এই যুগের সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে কালো ও লাল রঙের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত মৃৎপাত্রের সন্ধান মিলেছে। অন্যান্য নিদর্শনাদির মধ্যে রয়েছে লাল মৃৎপাত্রের টুকরা বা ফালি; সঙ্গে তামাটে, কমলা, গাঢ় বাদামি এবং দীপ্তিমান লোহিত মৃন্ময়। কিছু মাটির পাত্র সাদা বা কালো রঙের চিত্র দ্বারা অলঙ্কৃত। সাধারণভাবে ব্যবহূত হাতিয়ারগুলি ছিল হাড়ের তৈরী। একেবারে নিম্নস্তর থেকে লোহা ব্যবহারের প্রমাণ এ সাংস্কৃতিক পর্বের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। রেডিওকার্বন পদ্ধতির ভিত্তিতে এই পর্বের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ থেকে ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ।

দ্বিতীয় স্তর, এই স্তরের প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে লৌহ নির্মিত বিপুল সংখ্যক তীরের অগ্রভাগ, বাটালি ও ছুরির ফলা ইত্যাদি। এ সামগ্রীগুলি থেকে লোহা ব্যবহারের ক্রমবৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অবশ্য এ সময় হাড়ের সামগ্রী ব্যবহারেরও প্রচলন ছিল।

তৃতীয় স্তর, এই স্তরের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ছাপাঙ্কিত তাম্র মুদ্রা, লেখবিহীন তাম্র মুদ্রা এবং মৌর্য-শূঙ্গ শিল্পরীতির বেশ কিছু পোড়া মাটির মূর্তি। এই পর্বের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে আনুমানিক ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১ম খ্রিস্টপূর্বাব্দের শেষ পর্যন্ত।

চতুর্থ স্তর, এই স্তরটি কুষাণ সাংস্কৃতিক পর্বের একটি সমৃদ্ধিসূচক সময়কে তুলে ধরে। এ স্তরে মঙ্গলকোট প্রত্নস্থলে সম্ভবত সর্বপ্রথম ইটের রৈখিক বা লম্বালম্বি কাঠামো দৃষ্টিগোচর হয়। ফুল ও জ্যামিতিক অলঙ্করণের সুস্পষ্ট ছাপ সম্বলিত শক্ত লাল মৃৎপাত্র হচ্ছে এ যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্যসূচক মৃৎ-সামগ্রী। এ পর্বের প্রাপ্ত আকর্ষণীয় প্রত্নসামগ্রীর মধ্যে বেশ কিছু সিলমোহর, নির্ধারিত ছাঁচে নির্মিত পোড়ামাটির মূর্তি (কোন কোন মূর্তি স্বচ্ছ বস্ত্র পরিহিত) রয়েছে।

পঞ্চম স্তর, এই স্তরটি গুপ্তদের সমসাময়িক এবং একটি সমৃদ্ধ বস্ত্তগত জীবনের চিত্র তুলে ধরে। পূর্ববর্তী সময়ের মতো এই পর্বেও ব্যাপক নির্মাণ কর্মকান্ড দেখা যায়। এই স্তরে নানা ধরনের প্রতীক সম্বলিত বহুসংখ্যক সিল পাওয়া গেছে। সিলে উৎকীর্ণ প্রতীকগুলির মধ্যে রয়েছে রেলিং ঘেরা বৃক্ষ, অর্ধ-শায়িত ষাঁড়, পূর্ণ কুম্ভ, স্তূপ, কটিদেশে হাত রেখে দন্ডায়মান রমণী, তাম্র ও ব্রোঞ্জের আংটি, কংকন বা চুঁড়ি, খাদযুক্ত দন্ড বা ছুড়ি, গোলাকার গর্তযুক্ত অসম্পূর্ণ বাটি ইত্যাদি।

ষষ্ঠ স্তর, এই স্তরের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুপ্ত-পরবর্তীকাল থেকে আরম্ভ করে এ পর্বটি মধ্যযুগের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

এই স্থানে উৎখনন কার্য থেকে প্রাপ্ত বিপুল মূল্যবান প্রত্নসামগ্রী প্রমাণ করে যে, মৌর্য আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে এ প্রত্নস্থলটি সম্ভবত একটি পরিপূর্ণ নগরকেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করেছিল।

মঙ্গলকোট থেকে প্রাপ্ত প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি এবং অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান ১৪ই মে, ২০১৬ সালে মঙ্গলকোটের কাছে খেঁড়ুয়া গ্রামের নিকট অজয় ​​নদীতে বালি উত্তোলনের সময় ১০০০ বছরের পুরনো একটি বিষ্ণু মূর্তি আবিষ্কৃত হয়।  মূর্তিটি আরেকটি বিষ্ণু মূর্তির সাথে পাওয়া যায়।  মূর্তিগুলি বর্তমানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছে। অজয় নদীর তলদেশে বালি উত্তোলনের সময় মূর্তি দুটি আবিষ্কার করা হয়েছিল। যদিও মূর্তিগুলির বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, ত্রিবিক্রম রীতিতে তৈরি তিন ফুট ও আড়াই ফুটের মূর্তি দুটি একাদশ – দ্বাদশ শতকে তৈরি। ভগবানের দুইপাশে রয়েছেন দেবী লক্ষ্মী ও দেবী সরস্বতী। এই আবিষ্কারটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।

মধ্যযুগে, ভগবান বিষ্ণু চব্বিশটি রূপে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ত্রিবিক্রম রীতিতে তৈরি এই চতুর্ভুজা বিষ্ণু ভগবানের মূর্তিটি ভদ্রপীঠের উপর একটি বৃত্তাকার, পূর্ণ প্রস্ফুটিত পদ্ম ফুলের উপর সমাপদস্থানক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। ভগবানের ডানদিকে দেবী লক্ষ্মী একটি বৃত্তাকার পাদদেশে সামান্য বাঁক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, ডান হাতে একটি কলশ এবং বাম হাতে পদ্ম ফুল ধরে আছেন, বামদিকে দেবী সরস্বতী একটি বীণা ধরে আছেন।

মঙ্গলকোট থেকে প্রাপ্ত প্রাচীন তাম্র মুদ্রাএই স্থানে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক রাখালদাস ব্যানার্জি এসেছিলেন, তবে সে সময়ে খননকার্যের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তিনকড়ি দাস নামে এক ব্যাক্তি অজয় নদের চর থেকে কিছু প্রাচীন তাম্র মুদ্রা খুঁজে পান। যেটি, তিনি পরবর্তীকালে (১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে) পশ্চিমবঙ্গের প্রত্নক্ষেত্র বিভাগের পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করে তার হাতে সেই মুদ্রা গুলি তুলে দেন। যা, বর্তমানে আশুতোষ সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে।<br>

শেষ পর্যন্ত, একটি ধারাবাহিক খননকার্য (১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ) পরিচালনা করা হয়েছিল, খননকার্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অংশ গ্রহণ করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে এই মুদ্রা গুলি গুপ্ত ও কুষাণ যুগ সহ বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছিল।

এই অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী সুপরিচিত ব্যাক্তিবর্গচানক গ্রাম সহ এই অঞ্চলে অনেক সুপরিচিত ব্যাক্তি জন্মগ্রহণ করেছিলেন যারা পরবর্তীকালে অনেক খ্যাতি অর্জন করেন। তাদেরই মধ্যে অন্যতম হলেন – পল্লী কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিক ও রায় বাহাদুর রসময় মিত্র।

     ) পল্লী কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিক –                     “ বাড়ি আমার ভাঙন ধরা অজয় নদীর বাঁকে,                                                       জল যেখানে সোহাগ করে স্থলকে ঘিরে রাখে-কুমুদ রঞ্জন মল্লিক

 কুমুদ রঞ্জন মল্লিক ছিলেন একজন রবীন্দ্র সমসাময়িক কবি, যিনি ১৮৮৩ সালে ১ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার, মঙ্গলকোট ব্লকে্, কোগ্রামে পূর্ণচন্দ্র মল্লিক এবং সুরেশকুমারী দেবীর ঘরে জন্মগ্রহন করেন।  শিক্ষা তিনি ১৯০৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্র স্বর্ণপদক লাভ করেন।

  কর্মজীবনতিনি মাথরুন নবীনচন্দ্র বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন। তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রাথমিক পরামর্শদাতা এবং গুরু ছিলেন।

 সাহিত্যিক অবদান তাঁর কবিতা বৈষ্ণব ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং প্রায়শই গ্রামীণ বাংলার চিত্র তুলে ধরা হত। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু রচনা হল – শতদল, উজানি, একতারা, বীথি, বনতুলসি, অজয়, নুপুর এবং রজনীগন্ধা।

 পুরষ্কার ১৯৭০ সালে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক জগতারিনি স্বর্ণপদক এবং পদ্মশ্রী পুরষ্কার লাভ করেন।   উত্তরাধিকার তাঁর কবিতাগুলি হেমন্ত মুখার্জি, অনুপ ঘোষাল, এবং হৈমন্তী শুক্লার মতো বিখ্যাত বাঙালী গায়কদের সঙ্গীতে রয়েছে।  এই মহান পল্লী কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিক ১৯৭০ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পরলোক গমন করেন।

 ) রায় বাহাদুর রসময় মিত্র  – রায় বাহাদুর রসময় মিত্র ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের অন্তর্গত চানক গ্রামে ১৮৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা নবদ্বীপ চন্দ্র মিত্র ছিলেন চকদীঘি জমিদারের বিশিষ্ট কর্মচারী। তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন রাজকিশোর মিত্র। রসময়ের বয়স যখন পাঁচ তখন তাঁর পিতা পরলোক গমন করেন, যার ফলে তাঁদের পরিবারে আর্থিক সঙ্কট দেখা দেয় তা সত্ত্বেও তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। তিনি স্কলারশিপের টাকায় নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি ছোটবেলায় কাকা বিনোদ চন্দ্র মিত্রের কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি হুগলী জেলার কিছু স্কুলে শিক্ষকতার কাজ করেন। পরে তিনি হেয়ার স্কুলে পাঁচ বছর এবং পরবর্তীকালে হিন্দু স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন। তিনি খুব খারাপ অবস্থা থেকে বিশ শতকের প্রথম দশকে হিন্দু স্কুলকে তুলে এনেছিলেন খ্যাতির শীর্ষে। তিনি ১৯০৯ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে রায় বাহাদুর উপাধি গ্রহণ করেন। এই মহান ব্যাক্তি ১৯৩১ সালে ১০ই এপ্রিল পরলোক গমন করেন।

শিক্ষা ও কর্ম জীবন – গুসকরার সন্নিকট চানক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রসময় মিত্র। তার পিতার নাম নবদ্বীপচন্দ্র। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম হয়। সিউড়ি সরকারী বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে ১৫ টাকা বৃত্তি পান। হুগলী মহসিন কলেজে ২০ টাকা বৃত্তি নিয়ে এফ.এ. পাশ করেন তিনি। ইংরেজিতে এম.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেদিনীপুরের এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন। পরে হেয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন ও ৫ বছরে সে বিদ্যালয়ের প্রভূত উন্নতি করেন। এরপর সরকার তাকে হিন্দু স্কুলের দায়িত্ব দিলে তাঁর নিঃস্বার্থ কর্মনিষ্ঠা ও নিপুণ পরিচালনায় হিন্দু স্কুলের উন্নতি ঘটে। তিনি খারাপ অবস্থা থেকে বিশ শতকের প্রথম দশকে স্কুলকে তুলে আনেন খ্যাতির শীর্ষে। শিক্ষাজগতে এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার তাকে রায়বাহাদুর উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। ১৯১৬ খ্রী. তিনি সরকারী শিক্ষা-বিভাগ থেকে অবসর-গ্ৰহণ করেন। তাঁর বিদায়-সংবর্ধনা-সভায় কলিকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং সভাশেষে ঘোড়ার বদলে তাঁর ছাত্ররা জুড়িগাড়ি টেনে তাঁকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেয়। রসময় মিত্র সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তার কীর্তন গানে লোকে মুগ্ধ হত। তার রচিত গ্রন্থ হল কৃপাদৃষ্টি এবং রাস – রসকণিকা। স্বামী বিবেকানন্দের গ্রামীণ উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি  ভুমিকাঃ স্বামী বিবেকানন্দ গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতি গঠনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে দেখেছিলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অবকাঠামোর মধ্যে নিহিত ব্যবহারিক সমাধানের পক্ষে ছিলেন। তিনি গ্রামে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া, বৈজ্ঞানিক ও শিল্প উন্নয়ন, দরিদ্র ও নারীদের উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য ও বর্ণপ্রথার মতো সামাজিক কুফল মোকাবেলার উপর জোর দেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ব্যক্তি ও সম্প্রদায়কে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন অর্জনের জন্য ক্ষমতায়ন করা।   স্বামী বিবেকানন্দের গ্রামীণ উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গির মূল দিকগুলি হল –
  • সবার জন্য শিক্ষা: তিনি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা পৌঁছানোর গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন, তিনি মনে করতেন গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি।  তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমেই কুসংস্কার ও দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। তাঁর শিক্ষাদর্শনে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার পরিবর্তে ব্যবহারিক ও জীবনমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রামবাসীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে।

  • সামগ্রিক পদ্ধতি: তার দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যার মধ্যে ছিল স্বাস্থ্যের উন্নতি, কৃষির উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

  • মানবসৃষ্টি এবং ক্ষমতায়ন: বিবেকানন্দ দৃঢ় ব্যক্তিত্ব গঠনে এবং শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং জাতি গঠনে অবদান রাখতে পারে।

  • সামাজিক সংস্কার: তিনি বর্ণপ্রথা দূরীকরণের পক্ষে ছিলেন, নারীদের উন্নয়নে উৎসাহিত করেছিলেন এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন।

  • অর্থনৈতিক ও শিল্প প্রবৃদ্ধি: বিবেকানন্দ দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য শিল্পায়ন এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পক্ষে ছিলেন।

  • সম্প্রদায়ের স্বয়ংসম্পূর্ণতা: তিনি ব্যবহারিক উপায়ে এবং দৈনন্দিন জীবনে আধ্যাত্মিক নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী সম্প্রদায় তৈরির লক্ষ্য রেখেছিলেন।

  • ব্যবহারিক বেদান্ত: এই ধারণার মধ্যে ছিল আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করে সমাজের সেবা করা এবং সাধারণ মানুষের জীবন উন্নত করা।

  • ‘দারিদ্র্য নারায়ণ সেবা’: বিবেকানন্দ দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষকে ঈশ্বরজ্ঞানে সেবা করার আদর্শ দিয়েছিলেন, যা ‘দারিদ্র্য নারায়ণ সেবা’ নামে পরিচিত। তিনি মনে করতেন, মন্দির বা মূর্তিতে ঈশ্বর খোঁজার চেয়ে দরিদ্র মানুষের সেবা করাটাই প্রকৃত ধর্ম। এটি গ্রামীণ উন্নয়নের এক মানবিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তি তৈরি করে।

  • আত্মবিশ্বাস জাগরণ: স্বামীজি বিশ্বাস করতেন যে গ্রামের মানুষের মধ্যে সুপ্ত শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলে তবেই প্রকৃত উন্নতি সম্ভব। তিনি যুবসমাজকে এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

  • শোষণমুক্ত সমাজ: গ্রামীণ দারিদ্র্যের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিবেকানন্দ দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন—ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শোষণ এবং জমিদার ও অভিজাত শ্রেণীর অত্যাচার। তিনি এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে কোনো শোষণ থাকবে না এবং সবাই সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবে।

  • নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই বিবেকানন্দ নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীদের উন্নতি ছাড়া সমাজের সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। নারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলে তাদের স্বাবলম্বী করতে পারলে সমাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

  • কৃষকদের ক্ষমতায়ন: রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (RKMVERI) স্বামীজির দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘কৃষক দেবো ভব’ স্লোগানটিকে যুক্ত করেছে, যার মাধ্যমে কৃষকদেরও শ্রদ্ধার চোখে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, কৃষকদের অবস্থার উন্নতি না হলে গ্রামীণ উন্নয়ন সম্ভব নয়।
  • গ্রাম-ভিত্তিক উদ্যোগ: তিনি চেয়েছিলেন, গ্রামকেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামের সম্পদ ও মানবসম্পদকে কাজে লাগানো হোক। রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট – এর মতো সংস্থাগুলি তাঁর দেখানো পথে গ্রামীণ সমস্যা নিরসনে কাজ করে চলেছে।
আজকের চানকচানক গ্রামের বাসিন্দাদের জীবন হল স্থিতিস্থাপকতার এক স্থায়ী প্রমাণ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রামবাসীরা দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব, স্বল্প আয় এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলি থেকে অব্যাহতভাবে বঞ্চিত থাকার কারণে এক অবিরাম কষ্টের সম্মুখীন হয়।  এই গ্রামে চাকরি এবং আয় দুটোই প্রাথমিক এবং সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা হল স্থিতিশীল ও লাভজনক কর্মসংস্থানের প্রায় সম্পূর্ণ অভাব। চানক গ্রামের অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণরূপে কৃষিনির্ভর যা, অস্থির বর্ষা, বৃষ্টিপাত এবং কম ফলনশীল কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। বছরের আট মাস, রোপণ এবং ফসল কাটার মৌসুমের বাইরে, কাজের সুযোগ অদৃশ্য হয়ে যায়। যে কয়েকটি চাকরি পাওয়া যায় তাদের মধ্যে বেশিরভাগই হল বৃহত্তর খামারে দৈনিক মজুরির শ্রমিক (খেত মজুর) বা নিকটতম শহরে মাঝে মাঝে নির্মাণ কাজ, যা হল অস্থায়ী এবং কম বেতনের। একজন শ্রমিক হয়তো এক দিনের পরিশ্রমের বিনিময়ে খুব সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে, যা প্রায়শই একটি ছোট পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য ন্যূনতম পরিমাণের চেয়েও কম। এর ফলে সর্বজনীনভাবে আয়ের স্তর খারাপ হয়ে পড়ে। পরিবারগুলি চিরকালই খাদের কিনারে বাস করে। ছোট-খাটো অসুস্থতা, খারাপ ফসল, অথবা হঠাৎ ব্যয় তাদেরকে স্থানীয় মহাজনদের কাছে অপূরণীয় ঋণের মধ্যে নিমজ্জিত করে, যা প্রায়শই পিতামাতা থেকে সন্তানের কাছে চলে যায়। সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করতে না পারার ফলে দারিদ্র্যের চক্র কেবল টিকে থাকে না, বরং প্রতি বছর সক্রিয়ভাবে আরও গভীরতর হয়।

 ত্যাগী ভবিষ্যৎচানক গ্রামের শিশু এবং তরুণদের জন্য, উন্নত জীবনের স্বপ্ন তাদের পরিস্থিতির ভয়াবহ বাস্তবতার দ্বারা ক্রমাগত ম্লান হয়ে পড়েছে। সঠিক শিক্ষা অর্জনে অসুবিধা হল একটি গভীর সমস্যা।  এই গ্রামের শিক্ষা, অতিরিক্ত কর্মরত এবং প্রায়শই অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি ভেঙে পড়া কাঠামো যা গ্রামের স্কুলে নামমাত্র উপস্থিতির চেয়ে খুব বেশি কিছু নয়। পরিবারের আয়ের যোগানের জন্য শিশুরা প্রায় দশ বা বারো বছর বয়সের মধ্যেই স্কুল থেকে বেরিয়ে কাজের সন্ধানে ভিন শহরে পারি দেয়। এই গ্রামে ছেলেদের মাঠে কাজ করার জন্য আর মেয়েদেরকে গৃহস্থালির কাজ দেখাশোনা ও ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে রাখা হয়। পাঠ্যপুস্তক ও খেলার সময়কে, পরিশ্রম আর দায়িত্ব দিয়ে পূরণ করে তাদের যৌবন কেড়ে নেওয়া হয়। এখানে উচ্চশিক্ষার অভাবের অর্থ হল চিরস্থায়ী দক্ষতার ঘাটতি ও তরুণ প্রজন্মকে একই কম বেতনের, অদক্ষ চাকরিতে আটকে রাখা।

 অবহেলার মূল্য স্বাস্থ্য ও সুস্থতা এই গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার অবস্থাও সমানভাবে ভয়াবহ। গ্রামে একটি ছোট, জরাজীর্ণ উপ-কেন্দ্র আছে, যেখানে শুধুমাত্র মৌলিক প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। যেকোনো গুরুতর অসুস্থতার জন্য গ্রামের দরিদ্র বাসিন্দাদের যেতে হয় জেলা হাসপাতালে যা হল কষ্টকর এবং ব্যয়বহুল তা সত্ত্বেও পরিষেবা প্রায়শই অনেক দেরিতে আসে। নিম্ন আয়ের স্তরে বসবাসকারী গ্রামের বাসিন্দাদের সরাসরি খারাপ স্বাস্থ্যের পরিণতিতে রূপান্তরিত হয়। পরিবারগুলি পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারে না, যার ফলে অপুষ্টির ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। তারা প্রতিরোধমূলক যত্ন নিতে পারে না, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা জরুরি অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে থাকে। চানক গ্রামে পরিবহন খরচ, ওষুধের দাম এবং যোগ্য ডাক্তারদের কাছ থেকে দূরত্বের কারণে, একটি সাধারণ জ্বর বা মৌসুমী সংক্রমণ, যা শহরাঞ্চলে চিকিৎসাযোগ্য, সেটি এখানে জীবন-হানির পর্যায়ে পরিণত হয়ে যায়।  স্যানিটেশন এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে।

আমার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের চানক আমার গ্রামের ভবিষ্যৎ নিছকই এক গ্রামীণ জীবন বা শহুরে জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এ দুটি ধারার এক গতিশীল সংশ্লেষণ, যা টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের একটি আদর্শ মডেল তৈরি করবে। এটি এমন একটি স্থান হবে যেখানে গ্রামীণ ভারতের গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আধুনিক প্রযুক্তির রূপান্তরমূলক শক্তির সাথে মিশে যাবে, দীর্ঘদিনের পুরোনো সমস্যা গুলোর সমাধান করবে এবং একই সাথে সমাজের স্বতন্ত্র পরিচয়কে লালন-পালন করবে। শুধুমাত্র বৃষ্টি নির্ভর কৃষির উপর নির্ভরশীলতা থেকে সরে এসে একটি বহুমুখী এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়াটাই হবে এই গ্রামের ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি, যা সকল বাসিন্দার জন্য সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিক হবে প্রযুক্তিগত বিপ্লব। উচ্চ গতির ডিজিটাল সংযোগ, যা একসময় শহুরে কেন্দ্রগুলোর বিশেষ অধিকার ছিল, তা এখন সর্বত্র সহজলভ্য হবে যা প্রতিটি বাড়ি, খামার এবং স্থানীয় ব্যবসাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত করবে। এটি স্থানীয় কৃষকদের মূল্যবান জ্ঞান দিয়ে শক্তিশালী করবে, তাদের রিয়েল-টাইম বাজারের মূল্য সম্পর্কে জানতে, এ-আই চালিত ফসল ব্যবস্থাপনা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে এবং তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার আপডেট পেতে সাহায্য করবে, যার ফলে তাদের উৎপাদনশীলতা এবং আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ড্রোন এবং স্যাটেলাইট চিত্র নির্ভুল কৃষি পদ্ধতির সুবিধা দেবে, যা জল ব্যবহার এবং কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, যার ফলে ফসলের ফলন অপ্টিমাইজ হবে এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব কমবে। কৃষির বাইরেও, এই ডিজিটাল অবকাঠামো গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের একটি নতুন প্রজন্ম তৈরি করবে। দক্ষ কারিগররা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের হস্তশিল্প বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে পারবে, এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ কমে যাবে এবং তাদের কাজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। PMGDISHA – এর মতো সরকারি উদ্যোগের সাহায্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা কার্যক্রম নিশ্চিত করবে যে প্রতিটি গ্রামবাসী, অভিজ্ঞ কৃষক থেকে তরুণ উদ্যোক্তা পর্যন্ত, এই নতুন ডিজিটাল পরিবেশে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবে।

ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে টেকসই অনুশীলনের দিকে। গ্রামটি পরিবেশগত ভারসাম্যের একটি প্রতীক হয়ে উঠবে, যেখানে প্রাচীন জ্ঞান আধুনিক প্রযুক্তির সাথে একীভূত হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি, যেমন ছাদে স্থাপিত সোলার প্যানেল, সম্প্রদায়কে পরিষ্কার এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমাবে। বৃষ্টির জল সংগ্রহ এবং স্থানীয় জলাশয় পুনরুদ্ধারের মতো ঐতিহ্যবাহী জল সংরক্ষণ পদ্ধতিকে আধুনিক পরিস্রাবণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সাহায্যে পুনরুজ্জীবিত করা হবে, যা একটি টেকসই এবং নিরাপদ জল সরবরাহ নিশ্চিত করবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বৃত্তাকার অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে, যেখানে জৈব বর্জ্য রান্নার জন্য বায়োগ্যাস বা কৃষিকাজের জন্য পুষ্টি সমৃদ্ধ কম্পোস্টে রূপান্তরিত হবে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিসগুলো পরিকল্পিতভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। মহারাষ্ট্রের হিওয়ারে বাজারের মতো সফল মডেল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, সম্প্রদায় জৈব চাষ এবং ন্যূনতম বর্জ্যের জীবনধারা গ্রহণ করবে, যা প্রকৃতির সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

শিক্ষা এই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের অঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক অবকাঠামো এবং ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ সহ উচ্চ মানের এবং সহজলভ্য শিক্ষা সকল শিশুদের জন্য নিশ্চিত করা হবে। পাঠ্যক্রমটি নতুন গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে প্রাসঙ্গিক ব্যবহারিক বৃত্তিমূলক দক্ষতা, যেমন কৃষি ব্যবসা থেকে শুরু করে নবায়নযোগ্য শক্তি রক্ষণাবেক্ষণ, অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আপডেট করা হবে। মেয়েদের শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে, যা দীর্ঘদিনের সামাজিক বাধা দূর করবে এবং নারীদেরকে সামাজিক জীবন এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সম্পূর্ণ অংশগ্রহণের ক্ষমতা দেবে। উচ্চ শিক্ষার জন্য আর জনবহুল শহরে যেতে হবে না, কারণ ই-লার্নিং পোর্টাল এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাম বা তার কাছাকাছি এলাকার মধ্যেই উন্নত দক্ষতা প্রদান করবে। একটি শিক্ষিত এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতিই চালাবে না, বরং একটি আরো প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা তৈরি করবে, যা পুরানো সামাজিক নিয়মগুলোকে চ্যালেঞ্জ করবে।

তবুও, গ্রামের আত্মা তার গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেই থাকবে। প্রযুক্তি পৃথিবীকে কাছে আনলেও, গ্রামটি ঐতিহ্যগুলোর একটি আশ্রয়স্থল হয়ে থাকবে। আনন্দ এবং দুঃখ দ্বারা চিহ্নিত সামাজিক জীবন আরো শক্তিশালী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে বিকশিত হবে। বার্ষিক উৎসব, লোকসংগীত এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নতুন করে উৎসাহের সাথে উদযাপিত হবে, যার গুরুত্ব একটি প্রজন্মের কাছে আরও বৃদ্ধি পাবে যারা অগ্রগতি এবং ঐতিহ্যের মূল্য উভয়ই বোঝে। স্বচ্ছ এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সম্প্রদায় ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করবে যে উন্নয়ন স্থানীয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং জনগণের অনন্য আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে। স্থানীয় ভাষা, লোককাহিনী এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সংরক্ষণ একটি সামাজিক প্রচেষ্টা হবে, যা নিশ্চিত করবে যে গ্রামের পরিচয়ের সারমর্ম ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়।

পরিশেষে, ভবিষ্যতের গ্রামটি স্থিতিস্থাপকতা এবং অভিযোজনের একটি প্রমাণ হবে। এটি শহুরে সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি দ্বারা সংজ্ঞায়িত হবে না, বরং উভয় জগতের সেরা দিকগুলোর ইচ্ছাকৃত এবং সচেতন একীকরণের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হবে। এই ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি আমার গ্রামকে দেশের একটি সুপরিচিত ও আধুনিক গ্রামের তালিকায় নিয়ে আসবে।

উপসংহার সার্বিকভাবে, স্বামী বিবেকানন্দের গ্রামীণ উন্নয়নের চিন্তা ছিল সমন্বিত, যার মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের মানুষের মধ্যে সুপ্ত শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা। শিক্ষা, সেবা এবং আত্মনির্ভরতার ওপর ভিত্তি করে তিনি এক নতুন গ্রাম সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

চানক গ্রামে তুলনামুলকভাবে কম জনসংখ্যা রয়েছে, যেখানে পুরুষ, মহিলা এবং শিশু জনসংখ্যার নির্দিষ্ঠ বিভাজন রয়েছে, পাশাপাশি তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) বাসিন্দাদের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এই গ্রামে সাক্ষরতার হার মাঝারি (প্রায় ৬০ – ৭০%), পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সাক্ষরতার হার সাধারণত কম, যা শিক্ষাগত উন্নয়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলিকে নির্দেশ করে। এতো কিছু বাধা – বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও আমি মনে করি, এই গ্রাম একদিন তার শক্তিশালী পরিকাঠামো, ঐতিহ্য এবং আধুনিকীকরণকে হাতিয়ার করে উন্নত গ্রামে পরিণত হবে।